কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা

0
48

ডেস্ক : নেতৃত্ব নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় পদ ব্যবহার করে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজিসহ বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত কারো আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পর্যায়ে স্থান হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। নীতিবান, সততা ও পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করেই আসন্ন কাউন্সিলে দলীয় নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে জানিয়েছেন দলের হাই কমান্ড।

তারা জানিয়েছেন, সরকারি দলের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিগত ৩টি জাতীয় সংসদের সাবেক ও বর্তমান এমপিসহ শতাধিক নেতা নজরদারিতে রয়েছেন। দলীয় যেসব এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়াও চলমান।

দলীয় পদ ব্যবহার করে সন্ত্রাস-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, ভূমিদখলসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দলীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপরই তাদেরকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড সূত্রে জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের শাসনামলে দলীয় একাধিক এমপির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কথা- অন্যায়কারীকে ছাড় নয়, শাস্তি পেতে হবে। দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে যারা প্রবেশ করেছে, কিভাবে তারা দলে প্রবেশ করলো? কারা, কী কারণে অন্যদলের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে আনলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে ধরা হবে।

দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি কয়েকটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির, টেন্ডারবাজি, ভূমিদখল ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

জাতীয় সম্মেলন করতে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ প্রস্তত জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, আমাদের কিছু জেলায়, উপজেলা ও ইউনিয়নের সম্মেলন বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে এসব সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সহযোগি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। তবে বিতর্কিতরা কোন ভাবেই কোন কমিটিতে স্থান পাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় কাউন্সিলের সার্বিক কার্যক্রমে ন্যূনতম অভিযোগ রয়েছে এমন কাউকেই কোনো দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানের পর সারাদেশের আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে আদর্শিক, ত্যাগী সংগঠকদের উপস্থিতি বাড়ছে। যারা এতোদিন নানা রঙের গাড়ি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসতেন তাদের আনাগোনা কমেছে। নীতি আদর্শ ভুলে যারা দলীয় পদ ব্যবহার করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তাদেরকে এবার দলীয় পদ থেকে বাদ দেয়া হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মিরা আশা করছেন এবার দলে ত্যাগী নেতাকর্মিরা পদ-পদবী পাবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে